ট্রাম্পের নীতি

ভারতে সুদহার হ্রাসের পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হতে পারে

যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পদক্ষেপের কারণে রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার (আরবিআই) মুদ্রানীতি শিথিলের পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পদক্ষেপের কারণে রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার (আরবিআই) মুদ্রানীতি শিথিলের পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হতে পারে। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বিষয়টি উঠে এসেছে। খবর দ্য হিন্দু।

মূল্যস্ফীতির পাশাপাশি ট্রাম্পের নীতিকে ঘিরে অনিশ্চয়তা আরবিআইয়ের সুদহার কমানোর সিদ্ধান্তকে বিলম্বিত করতে পারে বলে জানানো হয় প্রতিবেদনে।

অবশ্য ভারতে মূল্যস্ফীতি কমবে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। তবে খাদ্যের দামে অস্থিরতা ও মূল্যস্ফীতির ওপর ট্রাম্পের নীতির সম্ভাব্য প্রভাব সুদহার কমানোর আরবিআইয়ের সিদ্ধান্তকে বিলম্বিত করার প্রধান কারণ হতে পারে। মূল্যস্ফীতি সম্পর্কিত অনিশ্চয়তা আর্থিক বাজারগুলোর ক্ষেত্রেও বড় আকারে প্রভাব ফেলতে পারে।

প্রতিবেদনটিতে আরো বলা হয়েছে, ২০২২ সালে মূল্যস্ফীতি ও সুদহারের দ্রুত বৃদ্ধির কারণে স্টক ও বন্ড বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। উচ্চ মূল্যস্ফীতি দেখা দিলে এবারো সে রকম অবস্থা হতে পারে। এ পরিস্থিতি বাজারের অস্থিরতার বিরুদ্ধে সুরক্ষা হিসেবে বন্ডের যে কার্যকারিতা রয়েছে তা কমতে পারে। এতে বিনিয়োগকারীরা অর্থ ঢালতে বিকল্প উপায় খুঁজতে বাধ্য হতে পারেন।

উচ্চ মূল্যস্ফীতি শেয়ার ও বন্ডের পারফরম্যান্সের সংযোগ বাড়াতে পারে, যা ঝুঁকি কমাতে বন্ডের কার্যকারিতা কমায়। এটি বাস্তব সম্পদ, নগদ অর্থ ও স্বর্ণকে মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরক্ষামূলক উপায় হিসেবে প্রস্তাব করেছে। ভোক্তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য এবং আর্থিকভাবে শক্তিশালী ও স্থিতিশীল কোম্পানির শেয়ার মূল্যস্ফীতির সময় স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে।

চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও আরবিআই ২০২৫ সালে সুদহার কমানো শুরু করতে পারে। মাঝারি মেয়াদে মূল্যস্ফীতি ৪ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ায় সুদহার দশমিক ৫ থেকে দশমিক ৭৫ শতাংশ কমতে পারে। তবে ক্রমাগত উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে একটি চক্রাকার উত্থানের কারণে সুদহার কমানোর গতি সংযত হতে পারে।

প্রতিবেদনে বর্তমান অর্থনৈতিক পরিবেশের জটিলতা তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে বৈশ্বিক ও দেশীয় প্রবণতাগুলো আর্থিক নীতিগত সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত। বিনিয়োগকারী ও নীতিনির্ধারকদের একইভাবে অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার ভারসাম্য বজায় রাখতে এ চ্যালেঞ্জগুলো সতর্কতার সঙ্গে মোকাবেলা করতে হবে।

আরও